নামজারী সকল প্রক্রিয়া কিভাবে সম্পন্ন হয়

নামজারী সকল প্রক্রিয়া কিভাবে সম্পন্ন হয়

সবাইকে স্বাগত জানাই, নামজারী সকল প্রক্রিয়া কিভাবে সম্পন্ন হয় খুব সুন্দর একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব ।

কখন নামজারী করতে হয়

জমি জমা বা ফ্ল্যাট, প্লট যাই আমরা বলিনা কোন যখনি সেটার হস্তান্তর হয় অর্থাৎ আপনি যখন ক্রয় করেন অথবা আপনি যদি হেবা করেন অথবা আপনি কোনভাবে সেই সম্পত্তি পান এওয়াজ বদলের মাধ্যমেই হোক হেবার মাধ্যমে হোক অথবা সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমেই হোক না কেন আপনি যখনই কোন সম্পত্তির মালিক হবেন সেটা ফ্ল্যাট, প্লট বা জমি হোক সেটার মালিক হবার পর তখনি কিন্তু আপনাকে একটি কাজ করতে হয় আর সেটা জমির নামজারী করা ।

তো জমির নামজারী করার জন্য প্রত্যেকেই সচেতন হতে হয় । এখন জমির নাম জারি করানোর শুরু থেকে শেষের সকল প্রক্রিয়া আপনাদের সাথে আলোচনা করব যাতে করে আপনারা যখনই কোন জমির মালিক হন সেই সম্পর্কে যেন আপনি সচেতন থাকতে পারেন এবং আপনার কি করনীয় সেই বিষয় নিয়ে যেন আপনি ভাবতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী যেন আপনি কাজ করতে পারেন

আরেকটা বিষয় আপনাদের মনে রাখতে হবে, আজ আমরা যে আলোচনা করছি সেটা নামজারী সংক্রান্ত এসিল্যান্ট/ সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে গিয়ে কাজ শুরু করতে হয় এর পাশা পাশি আপনাদের ভূমি অফিসেও কিছু কাজ থেকে যায় ।


কিভাবে নামজারী সম্পন্ন হয়


আবেদন দেয়ার পর থেকে নামজারী মনজুর পর্যন্ত এবং নামজারী খতিয়ান কিভাবে পাবেন তা উল্লেখ করা হলো ।-


প্রথমতঃ গ্রাহক কর্তৃক আবেদন সম্পন্ন করতে হবে অর্থাৎ আপনি যদি গ্রাহক হন তাহলে আপনি যদি নামজারি করতে যান, নামজারী করার জন্য একটি আবেদন তৈরি করবেন এবং সেই আবেদনের সহিত যে সকল কাগজপত্র আপনি আপনার মালিকানা অর্জন করেছেন সেই মালিকানা অর্জনের পাশাপাশি আপনার বায়া দলিল এবং আপনি যেই দলিলে সে সম্পত্তির মালিক হয়েছেন সেটা এওয়াজ বদলের মাধ্যমেই হোক, হেবার মাধ্যমে হোক অথবা সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমেই হোক বা অন্য কোনো দলিল হোক সেই দলিল গুলো একটার পর আরেকটা দিয়ে প্রথমে আপনাকে আবেদনটাকে সম্পন্ন করতে হবে।


দ্বিতীয়তঃ গ্রাহক কর্তৃক আবেদন সম্পন্ন করতে হবে, আপনি আবেদন সম্পন্ন করার পাশাপাশি আপনাকে একটি ইউসার আইডি পাসওয়ার্ড এবং নামজারী কেইচ নম্বর দেয়া হবে । সেটা আপনাকে সংরক্ষণ করতে হবে । অর্থাৎ আপনার আবেদনটি সম্পন্ন হলে সাথে সাথে ইউসার আইডি, পাসওয়ার্ড ও কেইচ নম্বর এই প্রক্রিয়াটি পেয়ে যাবেন । যদি আপনি এসিলেন্ট অফিসে না গিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে নামজারী করতে চান।


ইতিমধ্যে সকল নামজারি আপনার অনলাইনের মাধ্যমে করার পাশাপাশি আপনাকে কিন্তু একটা হার্ডকপি জমা দিতে হয় এসিলেন্ট অফিসে, তো অনলাইনে যখন করছেন তখন অনলাইনে ইউজার, পাসওয়ার্ড এবং কেইচ নাম্বারটা আপনি পেয়ে যাচ্ছেন, পরবর্তীতে আপনার আবেদন হওয়ার পর আপনি ইউজার আইডির পাসওয়ার্ড পাবেন ।


তৃতীয়তঃ এসিলেন্ট কর্তৃক ভূমি অফিসে প্রেরণ অর্থাৎ এসিলেন যখন আপনার আবেদন গ্রহণ করছেন আবেদন যাচাই-বাছাই করার পর আপনাকে কিন্তু সেটা এসিলেন্ট কর্তৃক ভূমি অফিসে তিনি একটি আদেশের মাধ্যমে প্রেরণ করবেন ।


চতুর্থতঃ এসিলেন্ট কর্তৃক ভূমি অফিসে প্রেরণ করার পর ULAO অর্থাৎ ইউনিয়ন ল্যান্ড এসিস্টেন্ট অফিসার একটি প্রস্তাবপত্র তৈরি করবেন এবং খসড়া একটি খতিয়ান তৈরি করবেন ।

পঞ্চমঃ এসিল্যান্ডের আদেশে শুনানি হবে এবং সার্ভেয়ার ও কানুনগো তাদের কাছে কিন্তু প্রেরণ করা হবে। একটা শুনানি হবে বাদী বিবাদী উপস্থিতিতে, অনেক সময় দেখা যায় বিবাদী যাকে করা হয় তিনি উপস্থিত হন না এ কারণে যে তিনি জানেন যে তিনি তার সম্পত্তিটা বিক্রি করে ফেলেছেন অথবা তার সম্পত্তিটি হস্তান্তর করে ফেলেছেন । তবে শুনানিতে বাদী বিবাদী উপস্থিত থাকলে বিষয়টি সবচেয়ে ভালো হয়।


ষষ্ঠত: কানুনগো এবং সার্ভেয়ার এদের প্রতিবেদনের জন্য এসিলেন্ট অপেক্ষা করবেন অর্থাৎ ইউ এ এল ও এই অফিসারের মাধ্যমে সার্ভেয়ার এবং কানুনগো (কানুনগো মানে হচ্ছে আগের এটা প্রাচীন একটি শব্দ অর্থাৎ যিনি আইন-কানুন নিয়ে কাজ করেন)


সার্ভেয়ারদের মাধ্যমে কানুনগো অন্যান্য আইন কানুন সেগুলো দেখবেন যেই সম্পত্তিটা আপনি নামজারি করতে চাচ্ছেন সেই সম্পত্তিতে সরকারি স্বার্থ রয়েছে কিনা, সরকারী যদি স্বার্থ থাকে খাস খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি হয়ে থাকে এই বিষয়গুলো কিন্তু এই কানুনগো এবং সার্ভেয়ারের প্রতিবেদনে উঠে আসে সার্ভেয়ার এবং কানুনগো প্রতিবেদনে যদি সঠিকভাবে এগুলা উঠে আসে এবং ইউ এ এল ও এর প্রতিবেদনে যদি সেটা সঠিক পাওয়া যায় তখন নামজারী মঞ্জুর করা হবে।



ভালো লাগলে পোস্টটি শেয়ার করুন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url